ইন্টারনেট

Boi থেকে

আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম হল ইন্টারনেট (Internet )। ইন্টারনেট এর বুদ্ধিটা বেশ সহজ। আজকে তুমি তোমার কম্পিউটারে বসে কাজ করছ, এবং তোমার বন্ধুরা তাদের নিজ নিজ কম্পিউটারে কাজ করছে। কোনভাবে যদি তোমাদের কম্পিউটারগুলোকে এমনভাবে সংযুক্ত করা যেত যাতে সবাই সবার কাজ দেখতে বা ব্যবহার করতে পারত, তবে সবারই কাজ করার সুবিধা অনেক বেড়ে যেত, তাই না? এই ভাবে একের অধিক কম্পিউটারকে সংযুক্ত করাকে বলা হয নেটওয়ার্ক (network)। আজ থেকে কয়েক দশক আকে, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় CERN নামের সুইটজারল্যান্ডের একটি বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক সংগঠনের বিজ্ঞানীরা প্রথম কিছু নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েকটি কম্পিউটারকে সংযুক্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় এই প্রযুক্তি তাদের কাজে ব্যবহার করা শুরু করে। তারও আারো পরে এই প্রযুক্তি উন্নত বিশ্বে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে সব বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে। ইন্টারনেট এ কম্পিউটার গুলো একটি বৈদ্যুতিক মাধ্যম দিয়ে সংযুক্ত -- ঠিক যেমন ফোন এর আলাদা লাইন আছে, তেমনি। বাংলাদেশে এখনো ইন্টারনেট বহুল প্রচলিত নয় -- তাই ইন্টারনেট হয়তো তোমার স্কুলে অনুপস্থিত -- আমরা সেজন্য তোমাদেরকে একরকম কৃত্রিম বা simulated ইন্টারনেট এর ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, যাতে করে তোমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করা শিখতে পারো, এবং পরবর্তীতে সত্যিকারের ইন্টারনেট পেলে তোমরা অনায়াসে ব্যবহার করতে পারো।


ইন্টারনেট আসলে কি?[সম্পাদনা]

ইন্টারনেট আসলে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে তৈরী একটি বিশাল নেটওয়ার্ক (network), ঠিক একটি বিশাল আকার মাকড়সার জালের মত। এই একটি কাল্পনিক সাদৃশ্যের জন্যই ইন্টারনেটকে অধিকাংশ সময়ে সংক্ষেপে web বা world-wide web বলা হয় -- ইংরেজী web শব্দটির অর্থ মাকড়সার জাল। এই বিশ্বজোড়া নেটওয়ার্কের প্রতিটি কম্পিউটারকে বলা হয় একেকটি নোড (node)। প্রতিটি নোড ইচ্ছে করলে বিভিন্ন ধরনের সার্ভিসের (service) মাধ্যমে অন্যান্য নোডগুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারে -- ইন্টারনেট এর পরিভাষায় এই যোগাযোগ করাকে বলা হয় কানেক্ট (connect) করা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য service হচ্ছে ওয়েব (web) এবং ইমেইল (e-mail)। এই service গুলোর প্রতিটির আলাদা আলাদা ব্যবহার আছে -- আমরা এদের সম্বন্ধে এখন তোমাদেরকে বলব।

Internet01.gif

ওয়েব (web)[সম্পাদনা]

এই সার্ভিসটির নামেই ইন্টারনেটের নামকরন -- সুতরাং এর জনপ্রিয়তা সহজেই অনুমান করতে পারো। তুমি এখানে যে পাতাটি পড়ছ, এটি একটি webpage, একটা website এর অংশ। একটি website হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের তথ্যকে উপস্থাপন করার একটি উপায়। ধর, তুমি বিদেশে বসে বাংলা খবরের কাগজ পড়তে চাও। এর জন্য তোমাকে তার website এ যেতে হবে -- তার জন্য তোমার দরকার তাদের web এর ঠিকানা বা address, যেমন www.ittefaq.com। যে কোন website এর প্রথম পাতাটিকে বলা হয় homepage। ঠিক যেমন একটি খবরের কাগজের প্রথম পাতায় সব সংবাদের শিরোনাম থাকে, তেমনি একটি website এর homepage এ থাকে বিভিন্ন লিন্ক (link), যা ক্লিক করলে তুমি পুরো প্রতিবেদনটি পড়তে পার। দৈনিক ইত্তেফাকের homepage এ 'ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়াকে ধরাশায়ী করল বাংলাদেশ' লিন্কটিতে ক্লিক করলে তুমি পড়তে পারবে বাংলাদেশের এই অভূতপূর্ব বিজয়ের পূর্ন বিবরন। আার তুমি এই বিবরনটি পড়বে আরেকটি পাতা বা webpage এ। শুধু খবরের কাগজই নয়, উন্নত বিশ্বে প্রায় সব ধরনের তথ্য পাওয়া যায় বিভিন্ন webpage -- যেমন বিভিন্ন আন্ত: নগর ট্রেনের সময়সূচী থেকে শুরু করে আজকের সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময়। ট্রেনের সময়সূচীর ক্ষেত্রে homepage এ থাকবে বিভিন্ন গন্তব্যের নাম, এবং তোমার পছন্দমত গন্তব্যে ক্লিক করলে তুমি পাবে ঐ শহরে যাওয়ার বিভিন্ন সময়ের বিবরনের একটি webpage। একটি webpage এ তথ্যের পাশাপাশি থাকতে পারে ছবি, যা তুমি তোমার মনিটরে দেখতে পার, বা গান, যা তুমি তোমার কম্পিউটারের স্পীকারে শুনতে পার। যেমন অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিজয়ের খবরের সাথে থাকতে পারে বাংলাদেশ দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়দের হাস্যোজ্জ্বল ছবি, এবং খেলার শ্বাসরুদ্ধকর কয়েকটি মিনিটের রেকর্ডেড অংশ বা clip, ঠিক যেমন তুমি টেলিভিশনে রাত ৮টার সংবাদে দেখবে। ইন্টারনেটের বিভিন্ন website ঘুরে দেখার জন্য যে বিশেষ সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হয় তার নাম web browser। এটি এমন একটি সফটওয়্যার যার মাধ্যমে তুমি যেকোন ওয়েব সাইট (web site)-এ বিভিন্ন লেখা,ছবি, গান এবং অন্যান্য তথ্যর অনুসন্ধান করতে পার। বর্তমান বিশ্বে বিশাল মাপের তথ্যভান্ডার এইসব web site এ রাখা আছে। প্রতিদিন পুরো পৃথিবীতে অসংখ্য বই ইনটারনেটে স্থানান্তর করা হচ্ছে -- একটি web browser ব্যবহার করে তুমি অনায়াসে এই জ্ঞান এর স্পর্শ পেতে পার। বর্তমানে বেশ কয়েকটি ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহৃত হয়, যেমন: মাইক্রোসফ্‌ট ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, মোযিলা ফায়ারফক্স, অ্যাপল সাফারি, নেটস্কেপ এবং অপেরা প্রভৃতি। আমাদের পছন্দের browser টির নাম হচ্ছে Firefox -- তুমি এখানে এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তার বর্ননা পাবে।

ইমেইল[সম্পাদনা]

ইমেইলের আক্ষরিক অনুবাদ হল বৈদ্যুতিক চিঠি। ইন্টারনেট একটি বৈদ্যুতিক মাধ্যম, তাই এর ওপর দিয়ে পাঠান চিঠি বা mail কে বলা হয়। যারা ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারে, তাদের সবারই একটি email address বা ঠিকানা থাকতে পারে। যেমন তোমার নাম কামাল হলে এবং তুমি মুকুন্দপুর স্কুলে পড়লে তোমার email address হয়তো হবে kamal@mukundupur.edu.bd। এই ঠিকানায় তোমাকে পৃথিবীর যে কোন মানুষ (যার নিজেরও একটি email address আছে) email করলে তুমি তা সম্ভবত কয়েল মূহূর্তের মধ্যে পেয়ে যাবে। তোমার প্রবাসী বন্ধু তোমাকে এভাবে পাঠাতে পারে তার নতুন খবরাখবর, বা একটি website এর ঠিকানা যেখানে চাঁদের কিছু নতুন ছবি দেখা যাচ্ছে। আাজকের পৃথিবীতে email মানুষকে দেশ, জাতি, ধর্ম বা বর্ন ব্যাতিরেকে এনেছে অনেক কাছাকাছি।


আরো দেখ: মাল্টিমিডিয়া